ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র

 

ওপরে নীল আকাশ, নিচে সাদা পাথর আার চারিদিকে সবুজের সমারোহ বেষ্টিত পর্যটন কেন্দ্রের নাম  ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র। সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে অবস্থিত দেশে সর্ব বৃহৎ সাদা পাথর কোয়ারী। ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর কোয়ারীর আয়তন প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে। দেশি-বিদেশি ভ্রমণ-পিপাসী মানুষ এসে ভিড় জমায় এই পর্যটন কেন্দ্রে। এই ভোলাগঞ্জ হচ্ছে এমনই প্রসান্তির স্থান যেখানে এলে হৃদয়ে শান্তি মিলে।

মেঘালয় থেকে মেঘ ভেসে এসেছে

সাদা পাথরের আর নীল জলরাশির উপর দিয়ে মেঘের আনাগোনা দেখলে মনে হয় যেন কুয়াশা ছেয়ে গেমে চারপাস। ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র এর অপরূপ নৈসর্গিক এই সৌন্দর্যের দৃশ্য এই পর্যটন কেন্দ্রকে আরও আকর্ষনীও করে তুলেছে। ভারতের সুউচ্চ ঝর্ণাধারা বেয়ে শীতল পানি সাদা পাথরের গা গেষে বয়ে চলোছে অভিরাম ধারায়। আর সেই পানিতে শত-শত পর্যটক গা ভাসিয়ে দিচ্ছে।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

বর্ষাকাল ও তার পরবর্তী কিছু মাস হচ্ছে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর বা পাথর কোয়ারী যাবার সবচেয়ে ভাল সময়। অর্থাৎ জুন থেকে ডিসেম্বর মাসের যেকোন সময় ঘুরে আসতে পারেন ভোলাগঞ্জ থেকে।

যাতায়ত ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা

ভোলাগঞ্জ যাওয়ার জন্য প্রথমেই আপনাকে সিলেট শহরে আসতে হবে। সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। সিলেট থেকে বাস, সিএনজি, লেগুনা বা প্রাইভেট কারে করে যাওয়া যায় ভোলাগঞ্জ।

বাস ভাড়া

সিলেটের মজুমদারী এলাকা থেকে বিআরটিসি, লোকাল ও টুরিস্ট বাসের মাধ্যমে ভোলাগঞ্জ যেতে পারেন।  এসব বাস সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রতি ২০ মিনিট পর পর এই রোডে  চলাচল করে। জনপ্রতি ৭০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন সাদা পাথর কোয়ারী এলাকায় ।

সিএনজি ভাড়া

সিলেটের আম্বরখানা থেকে জনপ্রতি ১৩০ – ১৫০ টাকা লোকাল ভাড়ায় সিএনজিতে যেতে পারবেন ভোলাগঞ্জ এলাকায়। সিএনজি রিজার্ভ নিলে যাওয়া আসার ভাড়া লাগবে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। এক সিএনজিতে ৫ জন বসা যায়।  ভোলাগঞ্জ যেতে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত সময় লাগবে।

মাইক্রো কিংবা প্রাইভেট কার  ভাড়া

মাইক্রো কিংবা প্রাইভেট কার রিজার্ভ করে ২৫০০-৩০০০ টাকায় সরাসরি ভোলাগঞ্জ দশ নম্বর ঘাট যেতে পারবেন।

সিলেট শহর থেকে টুকের বাজার অটোরিক্সার ভাড়া

আপনি চাইলে অটোরিক্সার সিলেট শহর হতে টুকের বাজার যেতে পারেন, এক্ষেত্রে জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা। আর এই টুকের বাজার থেকে আপনি ট্রলার এর মাধ্যমে ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট সাদাপাথর যেতে পারেন। আপনি যদি  বর্ষাকালে ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে ছাতক হয়ে নৌকাযোগে ভোলাগঞ্জ যেতে পারেন। এক্ষেতে অন্য ধরনের আনন্দ উপলব্ধি করতে পারবেন।

কিভাবে নৌকা ভাড়া করবেন

যৌথ নৌকা ভাড়া

সিএনজি, বাস, মাইক্রো কিংবা প্রাইভেট কার যে কোন মাধ্যম ধরে চলে আসলেন ভোলাগঞ্জ। আপনার মধ্যে একটি টানটান উত্তেজনা কাজ করছে। কখন আপনি নৌকা ভাড়া করে আপনার গন্তেব্যে আরোহন করবেন। সাদাপাথর যাওয়া ও আসার জন্য আপনাকে দশ নম্বর নৌকা ঘাট নৌকা ভাড়া করতে হবে। এক্ষেত্রে আনুমানিক খরচ হবে ৮০০-১০০০ টাকা। প্রতি নৌকায় সর্বোচ্চ ১০ জন যেতে পারবেন, যদিও এক্ষেত্রে কতৃপক্ষ ৮ জনের বেশি এক নৌকায় যেতে দিতে চায় না।

সিঙ্গেল নৌকা ভাড়া

আপনি যদি একা বা দু-একজন সাথে নিয়ে ঘুরতে যান তাহলে কম খরচে নৌকা ভাড়া করতে চাইলে অনেক নৌকা আছে। এক্ষেত্রে অনেক নৌকা রয়েছে যারা ১ জন ২ জন করে ৮-১০ জন মিলিয়ে নিয়ে যায়।  তাই নৌকা ভাড়ার খরচ কমে যাবে সাদাপাথর গিয়ে আপনারা যতক্ষন ইচ্ছা সময় কাটান, এক্ষেত্রে মাঝির সাথে কথা বলে মাঝির ফোন নাম্বার নিয়ে নিন।

BUS AND TRAIN

বাসে / ট্রেনে করে সিলেট যাতায়ত খরচ

ঢাকা থেকে ট্রেনে

ঢাকা টু সিলেট যেকোন বাস স্টেশন থেকে সৌদিয়া, গ্রীন লাইন, শ্যামলি, এনা ইত্যাদি পরিবহনের মাধ্যমে সিলেট যাতায়ত করতে পারেন। এক্ষেত্রে এসি বাস ভেদে জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। আর নন-এসি বাসের ভাড়া ৪৭৫ থেকে ৬০০ টাকা।

ট্রেনে করে সিলেট যাতায়াত করতে কমলাপুর কিংবা বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশান হতে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত অথবা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনকে বেছে নিতে।

চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে

চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে সিলেট যাতায়াত করতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশান হতে পাহাড়িকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেস এক্সপ্রেস ট্রেনকে বেছে নিতে। দুটি ট্রেন সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে।

Leave a Comment